যে সকল বিষয়ে আলোচনা হলো ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের হোটেল শ্যাংরি-লায় ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি, দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুই নেতা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় থেকে গড়ে ওঠা দুই দেশের সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তাঁরা পারস্পরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা,

বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কার্যপ্রণালির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গঠনে সার্বভৌম সমতা,

আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। উভয় পক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে হতাহতের ঘটনা বন্ধে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

প্রধান উপদেষ্টা ভারতের কাছে বাংলাদেশের কয়েকটি অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয় তুলে ধরেন, যার মধ্যে ছিল—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ, বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, এসব বিষয়ে ভারত গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে। আলোচনায় কথিত উগ্রবাদের উত্থান এবং সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের বিষয়টিও উঠে আসে।

প্রধান উপদেষ্টা এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রোপাগান্ডার বিপরীতে বাস্তবতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান এবং বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—তা তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ হোন কিংবা সংখ্যালঘু।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ সার্ক ও বিমসটেকের কাঠামোর আওতায় যৌথ উদ্যোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং বিমসটেকের চলমান মেয়াদে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ভারতের সহযোগিতা কামনা করে। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিমসটেকের চলমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠকটি ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়। দুই নেতা বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিতে এবং পারস্পরিক উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানিছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *