
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপিতে পদ পেয়ে খুশিতে তিন খাসি জবাই করে ভুরিভোজ আয়োজন করেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। এনামুল হাসান সিকদার নামের ওই ব্যক্তি উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
১৫ মার্চ এনামুল হাসান সিকদার ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদে নির্বাচিত হলেও দুইদিন আগে ঘটা করে উৎসব পালন করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা
এনামুল হাসান সিকদার ছিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এবার তিনি পেলেন বিএনপির ইউনিয়ন সদস্যপদ। এ নিয়ে কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির একটি পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনামুল হাসান সিকদার কালিশুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন শিকদার জামালের চাচাতো ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী আলমগীরের নিকট আত্মীয়।
তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিগত ১৫ বছর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় অনেক ব্যক্তির জমি দখল, সালিমেরর নামে বাণিজ্যসহ কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন মোল্লা ধলুর জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, এনামুল জীবনে কখনো বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। ২০১৬ সালের কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ৪ নম্বর কালিশুরী
ওয়ার্ডে নৌকা মার্কার এজেন্ট ছিলেন। অথচ গত ১৫ মার্চ তাকে কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদ দেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত
এক পত্রে তাকে এ সদস্য পদ দেওয়া হয়। আর এ আনন্দে এনামুল ১৭ মার্চ কালিশুরী হাইস্কুল সংলগ্ন নিজ বাড়িতে তিনি তিনটি খাসি জবাই করে ভুড়িভোজের আয়োজন করেন। তবে সেই ভুড়িভোজে ইউনিয়ন
বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কোনো নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন,
ওই ইউনিয়ন থেকে বিএনপি নেতৃবৃন্দ তার ব্যাপারে সুপারিশ করায় তাকে সদস্য করা হয়েছে। তার বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানতাম না।